গুগল রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

গুগল রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

গুগল সার্চ এর প্রথম পেজে সবাই আসতে চায়। কারণ প্রথম পেজে আশা মানেই হচ্ছে অরগানিক ট্রাফিক এর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। কিন্তু এই প্রথম পেজে আসার বিষয়টি এত সহজ নয়।

আবার আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থার কথা ভাবলে, বিষয়টি যে এত কঠিন, তা মনে হয় না। এর কারণ হচ্ছে আমাদের প্রতিযোগিতা কম। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী মূলত ফেসবুক কেন্দ্রিক ব্যবসায় করে। আবার অনেকেরতো কোন ওয়েবসাইট নেই। সে অবস্থান থেকে আমরা বলতে পারি, প্রতিযোগিতা কম। এবং যখন প্রতিযোগীতা কম থাকে তখন ব্যবসায়ীদের উচিত সেখানে নিজের অবস্থান তৈরি করে ফেলা, যেন ভবিষ্যৎ এ ভালো সহযোগিতা পাওয়া যায়। কারণ প্রতিযোগিতা আজ কম সত্যি কিন্তু সামনে এ প্রতিযোগিতা অবশ্যই বাড়বে কোন সন্দেহ ছাড়া।

গুগল সার্চ এর কথা ভাবলেই প্রথমে ভাবতে হয় Keyword নির্বাচন করা হয়েছে কিনা? আমি ধরে নিচ্ছি আপনারা Keyword নির্বাচন করে ফেলেছেন। তাই রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর দিকে গুগল বেশি নজর দেয় সে বিষয়গুলো তুলে ধরলামঃ

. Domain

আগে একটা সময় ছিল যখন Exact Match Domain এর অনেক কদর ছিল কিন্তু এখন গুগল তেমন একটা কদর করে না। কিন্তু যখন প্রতিযোগিতা বেশি থাকে তখন এ বিষয় এর দিকে গুগল নজর দেয়। Domain এর ক্ষেত্রে গুগল দুটি বিষয় এর দিকে নজর দেয়; এক, Domain এর Age, দুই, Keyword Domain এ আছে কিনা। ব্যবসায়ীক ওয়েবসাইট এর Domain এর নাম সব সময় ব্রান্ড এর নাম এই হয়, সেক্ষেত্রে Domain এর মধ্যে Keyword আছে কি নেই সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই।

(নোট, Domain Name যেন অনেক বড় না হয়)

. Keyword in URL

হোমপেজ ছাড়া যখন অন্যান্য পেজ গুলো তৈরি করা হয় তখন খেয়াল রাখতে হয় Keyword যেন URL এর মধ্যে থাকে। (Keyword যেন slug এর মধ্যে থাকে)।

যেমন – moshiurmonty.com/DigitalMarketingTraining

এখানে slug বলতে DigitalMarketingTraining কে বোঝানো হচ্ছে এবং DigitalMarketingTraining-ই হচ্ছে এই URL এ Keyword.

. Title Tag / Meta Title

Title Tag এ অবশ্যই Keyword থাকতে হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, Title Tag এর প্রথমে Keyword থাকলে আপনি বেশি সুবিধা পাবেন। তাই এমন ভাবেই Title Tag লেখা উচিত যেন Title Tag এর প্রথমেই Keyword থাকে।

. Description Tag / Meta Description

বর্তমানে রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে Description Tag-কে গুগল তেমন বেশি প্রাধান্য দেয় না। কিন্তু যখন প্রতিযোগিতা বেশি থাকে Keyword ক্ষেত্রে তখন গুগল নজর দিয়ে থাকে। এছাড়া Description Tag এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী সহজেই বুজতে পারে এই পেজে কি আছে, সে ক্ষেত্রে টার্গেটেড ট্রাফিক পাওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় এবং ক্লিক বৃদ্ধি পায়।

. H1

আর্টিকেল এ যেন অবশ্যই H1 থাকে এবং Keyword কে যেন H1 হিসেবে দেয়া হয়। গুগল Title Tag এর পরে H1 কে অনেক প্রাধান্য দেয়। সাথে সাথে খেয়াল রাখবেন Sub-Heading এর মধ্যেও যেন Keyword থাকে।

. Content Length and Keyword Limitation

আমার মতে একটি আর্টিকেল কমপক্ষে ৮০০ শব্দের হওয়া উচিত। ৮০০ শব্দ এর নিচের আর্টিকেলকে আসলে আর্টিকেল বলে মনে হয় না। এবং Keyword Limitation হচ্ছে 0.7%  – 0.9%.  অর্থাৎ আপনি ১০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখলে Keyword কে ৭-৯ বার লেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, গুগল বড় আর্টিকেল পছন্দ করে। এবং আর্টিকেলকেই সব চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় রেঙ্কিং এর ক্ষেত্রে। যদি আপনি গুগল এর পছন্দের দিকে থাকতে চান এবং প্রতিযোগিতা থেকে একটু আলাদা ভাবে ভিআইপি ভাব এ থাকতে চান তখন আপনাকে ৩০০০+ শব্দের আর্টিকেল লিখতে হবে। এবং সহজেই বুঝতে পারছেন ৩০০০+ শব্দের আর্টিকেল লেখা মানে হচ্ছে Keyword আরো বেশি বার আর্টিকেল এর মধ্যে আনার সুযোগ পাচ্ছেন।

এখানে আরো কিছু বিষয় বলে রাখা ভালো, বড় আর্টিকেল লেখা মানেই হচ্ছে আপনি সহজেই কয়েকটি Keyword নিয়ে কাজ করতে পারবেন, এর মানে হচ্ছে কয়েকটি Keyword ধরে রেঙ্কিং হওয়ার সুযোগ এবং বেশি ট্রাফিক পাওয়ার সুযোগ।

(মনে রাখবেন, Content যেন Unique হয়)

. Image Optimization

আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিষয় এর দিকে নজর দেই না। কিন্তু গুগল এর Image Search থেকে অনেক ট্রাফিক পাওয়া যায় এবং Image Optimization কে গুগল অনেক প্রাধান্য দেয়। তাই যখন Image Upload করবেন তখন Image এর File Name অবশ্যই দিবেন এবং সাথে সাথে Alt Attribute দিবেন এবং লক্ষ্য রাখবেন Keyword যেন Alt Attribute এ থাকে।

. Internal and External Link

আপনার আর্টিকেল এর মধ্যে কমপক্ষে একটি External Link এবং এক এর অধিক Internal Link ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

. Bold, Italic, Underline

আর্টিকেল এর মধ্যে আপনার টার্গেটেড Keyword একবার Bold, একবার Italic এবং একবার Underline দিয়ে লিখবেন।

১০. Image and Video

আপনার আর্টিকেল এর মধ্যে অবশ্যই একের অধিক Image ব্যবহার করুন। এবং একটি ভিডিও শেয়ার করুন। ভিডিওটি যেন আপনার YouTube Channel এর হয় এবং ভিডিওটি যেন আর্টিকেল এর টপিক এর হয়। ইউজারকে আকৃষ্ট করার জন্য ইনফোগ্রাফিক ব্যবহার করতে পারেন।

১১. Comment

একটি আর্টিকেল এ যখন অনেক কমেন্ট হয় তখন স্বভাবতই ধরে নেয়া হয়, ইউজার আর্টিকেলটি পছন্দ করেছে এবং আরো নতুন কিছু জানতে চাচ্ছে বা ধন্যবাদ জানাচ্ছে। গুগল এর কাছে এই বিষয়টি পজিটিভ র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে। কিন্তু আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, কোন ভাবে যেন Spam Comment না হয়।

১২. Page Loading Speed

যদি পেজ খুলতে বেশি সময় নেয় তাহলে আপনি ট্রাফিক হারাতে পারেন। এবং এর কারণে হয়ত আপনি র‍্যাঙ্ক থেকে দূরে থাকতে পারেন বা রেঙ্ক পাওয়ার পর সে রেঙ্ক থেকে আপনাকে নিচে নামিয়ে দিতে পারে।

১৩. Mobile Optimized and AMP

বর্তমানে প্রায় সবাই মোবাইল এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কেউ কেউ শুধু মোবাইল এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, আর কেউবা মোবাইল এর সাথে সাথে ডেস্কটপ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাই আপনার ডেভেলপার এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ওয়েবসাইট Mobile Optimized কিনা। Mobile Optimization এর ক্ষেত্রে AMP এর ব্যবহার আপনার ওয়েবসাইটকে আরেক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১৪. Reading Level

আগে Reading Level কে তেমন একটা প্রাধান্য দেয়া হত না। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Readability Level খারাপ হলে আপনি ট্রাফিক হারাতে পারেন এবং সাথে সাথে গুগল এর চোখে নেগাটিভ হয়ে যাবেন। যারা WordPress এ Yoast Plugin ব্যবহার করেন তারা দেখবেন Yoast Readability Level দেখায়। Readability Level মূলত Sentence সাজানোর উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।

১৫. HTTPS

SSL Certificate এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট HTTPS এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং এ বিষয়টি গুগল এর কাছে পজিটিভ।

১৬. Terms of Service and Privacy Pages

অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইট এ এই দুটো পেজ রাখবেন। আমরা অনেকেই যারা শুধুমাত্র ব্লগিং নিয়ে কাজ করি তারা এ দুটো পেজ রাখি না কিন্তু এ দুটো পেজ থাকা জরুরী। এছাড়া এ দুটো পেজ ছাড়া আপনি কখনো Google Adsense এর Approval পাবেন না।

১৭.  Google Analytics and Google Search Consol

ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক এর তথ্য পাওয়ার জন্য Google Analytics ব্যবহার করুন এবং গুগল এর থেকে যে কোন নোটিশ বা ওয়েবসাইট সম্পর্কে কোন তথ্য পেতে এবং সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে দ্রুত যুক্ত হওয়ার জন্য Google Search Consol এ আপনার ওয়েবসাইট লিস্ট করুন।

১৮. Bounce Rate

আপনি একবার রেঙ্ক পেয়ে গেলে এর মানে এই নয় যে সারাজীবন আপনি সে রেঙ্ক এই থাকবেন। গুগল আপনার রেঙ্ক থেকে উপরেও নিয়ে যেতে পারে আবার নিচেও নিতে পারে। ধরুন, আপনি প্রথম পেজের প্রথমে আছে। এবং সবাই আপনার ওয়েবসাইট এ যাচ্ছে কিন্তু কম সময়ের মধ্যেই ফিরে আসছে এবং দ্বিতীয় রেঙ্ক করা ওয়েবসাইট এ গিয়ে বেশি সময় থাকছে। তখন গুগল মনে করবে, দ্বিতীয় ওয়েবসাইট আপনার ওয়েবসাইট এর চাইতে বেশি ভালো কন্টেন্ট রেখেছে, তখন দ্বিতীয় ওয়েবসাইটকে গুগল প্রথমে পাঠিয়ে দিবে।

এই যে কম সময়ে ফিরে আসা, এর কারণে ওয়েবসাইট এর Bounce Rate বেড়ে যায়। তাই Bounce Rate ৪০%-৬০% এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। আপনি যদি ৪০% এর আরো নিচে নিতে পারেন তাহলে আরো ভালো।

১৯. Direct Traffic (Old User)

Direct Traffic এর কদর অনেক বেশি গুগল এর কাছে। Direct Traffic বলতে এমন ইউজারদের বোঝানো হচ্ছে, যারা আগে আপনার ওয়েবসাইট এ এসেছে এবং আপনার ওয়েবসাইট তাদের ভালো লেগেছে এবং পরবর্তীতে নিজের ইচ্ছায় আপনার ওয়েবসাইট এ সরাসরি আসলো।

২০. Google Chrome, Google Plus, YouTube

আমরা জানি এই তিনটি গুগল এর প্রোডাক্ট। গুগল পছন্দ করে তার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে। তাই সবসময় আপনার আর্টিকেল Google Plus এ শেয়ার করবেন, একটি YouTube চ্যানেল ব্যবহার করবেন। যেহেতু গুগল Google Chrome থেকে ডাটা নেয় তাই Google Chrome এ যদি ইউজার আপনার ওয়েবসাইটকে Bookmark করে রাখে তাহলে সেটা আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য BIG PLUS.

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *